সিলেটের অন্যতম সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২০২৬ সেশনের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী মাসুদ রানা তুহিন। অন্যদিকে, সেক্রেটারি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
শাবিপ্রবি শাখার নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের লক্ষ্যে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যদের নিয়ে এক বিশেষ ‘সদস্য সমাবেশ’ আয়োজন করা হয়। অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এই সমাবেশে সংগঠনের সাংবিধানিক নিয়ম অনুসরণ করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে মাসুদ রানা তুহিন সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন।
ছাত্রশিবিরের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের পরামর্শক্রমে সেক্রেটারি মনোনয়ন দেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর মুজাহিদুল ইসলামকে ২০২৬ সেশনের জন্য সেক্রেটারি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
উক্ত সদস্য সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। তিনি নবনির্বাচিত সভাপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী। এছাড়া মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও শাবিপ্রবি শাখার সদ্য বিদায়ী সভাপতি তারেক মনোয়ার। বিদায়ী সভাপতি হিসেবে তিনি নতুন নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন এবং তাদের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন।
নবনির্বাচিত সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় এবং ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে কর্মীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া মুজাহিদুল ইসলাম সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং (CEE) বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। প্রকৌশল বিদ্যার ছাত্র হয়েও সাংগঠনিক দক্ষতায় তিনি নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে তিনি কাজ করবেন বলে জানানো হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ নসিহত পেশ করেন। তিনি বলেন, “ছাত্রশিবির কেবল একটি রাজনৈতিক সংগঠন নয়, বরং এটি সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরির একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শাবিপ্রবির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্যাম্পাসে যারা নেতৃত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের নৈতিক মানদণ্ড হতে হবে অত্যন্ত উঁচুমাপের। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোই হবে নতুন কমিটির প্রধান কাজ।”
তিনি আরও বলেন, “২০২৬ সাল আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে ক্যাম্পাসে একটি সুস্থ ধারার ছাত্ররাজনীতি উপহার দিতে হবে। কোনো ধরনের উগ্রতা নয়, বরং মেধা ও যুক্তি দিয়ে শিক্ষার্থীদের মন জয় করতে হবে।”
সদ্য সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য তারেক মনোয়ার তার বিদায়ী বক্তব্যে বলেন, “শাবিপ্রবিতে ইসলামী ছাত্রশিবির সবসময় ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করেছে। গত সেশনে আমরা চেষ্টা করেছি শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার। নতুন কমিটি সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সংগঠনকে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।” তিনি নবনির্বাচিত সভাপতি ও সেক্রেটারিকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
শাবিপ্রবিতে ছাত্রশিবিরের নতুন কমিটি ঘোষণার পর ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক কার্যক্রমের গতি বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নবনির্বাচিত কমিটি শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে এবং ক্যাম্পাসের একাডেমিক পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধান ও নৈতিক অবক্ষয় রোধে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
সংগঠনটির নেতারা জানান, তারা দল-মত নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকবেন। বিশেষ করে গবেষণা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনে যৌক্তিক দাবি আদায়ে তারা বদ্ধপরিকর।
শপথ গ্রহণ ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে বুধবারের সদস্য সমাবেশ সমাপ্ত হয়। নবনির্বাচিত সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন এবং সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য এবং সকল সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীর সহযোগিতা কামনা করেছেন। শাবিপ্রবির সবুজ চত্বরে মেধা ও মননশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখতে এই নতুন কমিটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংগঠনের কর্মীরা।
