তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় ডাক পেলেন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের চূড়ান্ত ক্ষণে একের পর এক চমকপ্রদ খবর আসছে। রাজনৈতিক অঙ্গনের সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার নিশ্চিত হওয়া গেল যে, নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং দেশের প্রখ্যাত আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি নিজেই মন্ত্রিসভায় ডাক পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দৈনিক সমকাল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য তাকে টেলিফোন করা হয়েছে। এই খবরে তার নির্বাচনী এলাকা ঝিনাইদহে আনন্দের বন্যা বইছে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।


বিএনপি নেতৃত্বাধীন এই নতুন সরকারে কারা মন্ত্রী হচ্ছেন, তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে ছিল নানা সমীকরণ। তবে মো. আসাদুজ্জামানের নাম প্রথম থেকেই তালিকার উপরের দিকে ছিল। মঙ্গলবার সকালে সেই গুঞ্জন বাস্তবে রূপ নিল। তিনি নিশ্চিত করেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তাকে ফোন করে বিকেলে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আইন অঙ্গনের এই শীর্ষ ব্যক্তিত্বের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি নতুন সরকারের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিচার বিভাগ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা সরকারকে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অথবা সমমর্যাদার কোনো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।


সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ আসনে মো. আসাদুজ্জামান ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। নির্বাচনের ফলাফলের পরিসংখ্যানই বলে দেয় তার জনপ্রিয়তার তুঙ্গস্পর্শী অবস্থান। তিনি এই আসনে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে যোজন যোজন বেশি।

শৈলকুপার সাধারণ মানুষ মনে করেন, মো. আসাদুজ্জামান কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি একজন সজ্জন ও নীতিবান মানুষ। তার এই বিপুল বিজয় এবং এখন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার খবরে এলাকার মানুষের প্রত্যাশা আরও বেড়ে গেল। স্থানীয়রা আশা করছেন, অবহেলিত এই জনপদের উন্নয়নে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন।


মো. আসাদুজ্জামান বাংলাদেশের আইনি অঙ্গনে এক পরিচিত নাম। তিনি দীর্ঘদিন সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন এবং বিগত সময়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বা অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন (অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বা পূর্বের প্রেক্ষাপটে)। আইনের খুঁটিনাটি এবং সংবিধান বিষয়ে তার অগাধ পাণ্ডিত্য রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই মন্ত্রিসভায় মো. আসাদুজ্জামানের মতো অভিজ্ঞ ও টেকনিক্যাল জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির উপস্থিতি মন্ত্রিসভার ওজন বৃদ্ধি করবে। বিশেষ করে রাষ্ট্র সংস্কার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার যে চ্যালেঞ্জ নতুন সরকারের সামনে রয়েছে, তা মোকাবিলায় আসাদুজ্জামান ‘কী-পারসন’ বা মূল চাবিকাঠি হতে পারেন।


আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।

এর আগে আজ সকালেই জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও মো. আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন এবং এমপি হিসেবে শপথ নেন। এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মন্ত্রী হওয়ার ডাক পাওয়া নিঃসন্দেহে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের এক বড় অর্জন।

সংসদ ভবন এলাকা এখন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। দেশি-বিদেশি অতিথি এবং ভিআইপিদের আগমনে মুখরিত সংসদ চত্বর। বিকেলে সূর্য ঢলে পড়ার আগেই নতুন মন্ত্রীদের আগমনে দক্ষিণ প্লাজা এক মিলনমেলায় পরিণত হবে।


মো. আসাদুজ্জামানের মন্ত্রী হওয়ার খবর শৈলকুপায় পৌঁছানো মাত্রই স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমে আসেন। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় নেতারা বলছেন, “শৈলকুপার মানুষ আজ গর্বিত। আমাদের নেতা তার যোগ্যতা দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে জায়গা করে নিয়েছেন। আমরা তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই এমন একজন যোগ্য মানুষকে মূল্যায়ন করার জন্য।”


আইনের শাসন, মানবাধিকার রক্ষা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের জন্য মো. আসাদুজ্জামান এক বড় সম্পদ। আজ বিকেলের শপথের মধ্য দিয়ে তিনি তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তার হাত ধরে ঝিনাইদহ-১ আসন তথা সমগ্র বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চলুন