আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ঢাকা-১৪ আসনটি নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ও জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার আহমেদ বিন কাশেম আরমানের পক্ষে গণসংযোগ ও প্রচারণায় ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মীরপুরে ব্যারিস্টার আরমানের সমর্থনে অনুষ্ঠিত বিশাল নারী মিছিলটি এলাকার সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
সন্ত্রাস, দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজিত এই মিছিলে মীরপুর ও এর আশপাশের এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক নারী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাদের হাতে শোভা পাচ্ছিল জোটের নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ এবং মুখে ছিল পরিবর্তনের স্লোগান।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনের ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন মনিকানন স্কুল প্রাঙ্গণ জনসমুদ্রে রূপ নেয়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল থেকেই বিভিন্ন ওয়ার্ড ও মহল্লা থেকে নারীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে স্কুল প্রাঙ্গণে সমবেত হতে থাকেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে উপস্থিতি বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে তা বিশাল মিছিলে রূপ নেয়।
মনিকানন স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য মিছিলটি ব্যারিস্টার আহমেদ বিন কাশেম আরমানের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে বের হয়। মিছিলটি মিরপুর ১-এর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মাজার রোড এবং বিভিন্ন অলিগলি প্রদক্ষিণ করে। এ সময় রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ জনতা ও পথচারীরা হাত নেড়ে প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানান। মিছিলে অংশগ্রহণকারী নারীদের সুশৃঙ্খল উপস্থিতি এবং ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্ল্যাকার্ড বহন করার দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। নারীদের এই বিশাল শোডাউন প্রমাণ করে যে, এই আসনে ১১ দলীয় ঐক্যের সাংগঠনিক ভিত্তি বেশ মজবুত এবং নারী ভোটারদের মাঝেও তাদের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সেখানে প্রার্থীর সমর্থক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার আহমেদ বিন কাশেম আরমান উপস্থিত জনতা ও নারী ভোটারদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি তার বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সুশাসন এবং আগামীর বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা তুলে ধরেন।
ব্যারিস্টার আরমান বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি যেখানে কোনো সন্ত্রাস থাকবে না, দুর্নীতি থাকবে না। সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। ইনসাফ বা ন্যায়বিচার হবে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যই আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আমাদের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা হলো ন্যায়বিচারের প্রতীক।”
তিনি উপস্থিত নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা আজ যেভাবে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের সমর্থন জানিয়েছেন, তা প্রমাণ করে যে দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে আপনাদের প্রতিটি ভোট হবে জুলুমের বিরুদ্ধে এবং ন্যায়ের পক্ষে। তাই দলমত নির্বিশেষে সবাই দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে আমাকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন।”
ব্যারিস্টার আরমান তার বক্তব্যে আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি চলমান বা প্রস্তাবিত গণভোট (প্রদত্ত তথ্যের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী) নিয়েও কথা বলেন। তিনি ভোটারদের সচেতন করার লক্ষ্যে বলেন, “শুধুমাত্র প্রার্থী নির্বাচনেই আমাদের দায়িত্ব শেষ নয়। দেশ ও জাতির স্বার্থে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেখানেও আপনাদের ভূমিকা রাখতে হবে। ন্যায়-ইনসাফের নতুন বাংলাদেশ গড়তে আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ জানাব, আপনারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে সিল মারুন এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের অংশীদার হোন।”
তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “সারা দেশে আজ দাঁড়িপাল্লার পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনো ষড়যন্ত্র দিয়েই রোখা যাবে না। ইনশাআল্লাহ, আগামী ১২ তারিখে ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের বিজয়ের মধ্য দিয়ে আমরা একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নযাত্রা শুরু করব।”
ঢাকা-১৪ আসনে নারী ভোটারদের সংখ্যা এবং প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যারিস্টার আরমানের পক্ষে এই বিশাল নারী মিছিল তার প্রচারণায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সাধারণত রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে নারীদের উপস্থিতি সীমিত থাকলেও, সোমবারের মিছিলে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রতিপক্ষের জন্য ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মিছিলে অংশগ্রহণকারী এক নারী ভোটার বলেন, “আমরা চাই দেশে শান্তি ফিরে আসুক। আমাদের সন্তানেরা নিরাপদে থাকুক। ব্যারিস্টার আরমান একজন শিক্ষিত ও তরুণ প্রার্থী। আমরা মনে করি, তিনি নির্বাচিত হলে আমাদের এলাকার উন্নয়ন হবে এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।”
১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার আরমান এই আসনে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন তার কর্মীরা। জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব ভোটব্যাংকের পাশাপাশি শরিক দলগুলোর সমর্থন তাকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। মীরপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন বড় শোডাউন কর্মীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, প্রচার-প্রচারণা ততই তুঙ্গে উঠছে। তবে ব্যারিস্টার আরমানের এই নারী মিছিল নির্বাচনী মাঠে এক নতুন বার্তা দিয়ে গেল—তা হলো, সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরাও এখন রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি সচেতন এবং তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বদ্ধপরিকর।
আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনের ফলাফল কী হবে, তা সময় বলে দেবে। তবে সোমবারের এই বিশাল মিছিল এবং ব্যারিস্টার আরমানের আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য নিঃসন্দেহে নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে। এখন অপেক্ষা কেবল ভোটের দিনের, যেখানে জনগণ তাদের রায় ব্যালটের মাধ্যমে প্রকাশ করবেন।
