ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানের পদত্যাগের ঘোষণা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যেই পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে উপাচার্যের এই সিদ্ধান্ত দেশের উচ্চশিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান এক অনন্য গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের পরিচয় দেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “আমি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াচ্ছি, যাতে নবনির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার তাদের নিজস্ব দর্শন ও পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সাজিয়ে নিতে পারে। আমি চাই না নতুন সরকারের যাত্রাপথে কোনো ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হোক।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন সরকার আসার পর তাদের পথ সুগম করে দেওয়া নৈতিক দায়িত্বের অংশ। নির্বাচিত সরকার আসার পর তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

ঘোষণা দিলেও এখনই উপাচার্য পদটি শূন্য হচ্ছে না। অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান জানান, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র প্রস্তুত করলেও তা এখনও জমা দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে যেন কোনো তাৎক্ষণিক শূন্যতা বা স্থবিরতা তৈরি না হয়, সেজন্য তিনি আরও কিছুদিন দায়িত্ব পালন করবেন। মূলত একটি সুষ্ঠু হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতেই তার এই অবস্থান।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল ১০ আগস্ট পদত্যাগ করেন। এরপর দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে ২৭ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানকে সাময়িকভাবে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর। গত দেড় বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

নির্বাচনের আগের দিন এমন সিদ্ধান্তে ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ মনে করছেন, নির্বাচনের আগে উপাচার্যের এই ঘোষণা নিরপেক্ষতার এক বড় উদাহরণ। তবে অন্য একটি অংশ মনে করছেন, এই পদত্যাগের ফলে নতুন সরকার আসা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

তবে উপাচার্য আশ্বস্ত করেছেন যে, তিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রম ব্যাহত হবে না এবং নতুন সরকারের প্রতিনিধির হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েই তিনি বিদায় নেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চলুন