মিরসরাই আসনে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে, বিএনপি নুরুল আমিন

চট্টগ্রামের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই)। এই জনপদকে সন্ত্রাসমুক্ত, আধুনিক এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার এক মহাপরিকল্পনা নিয়ে হাজির হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যান। গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) রাত ৮টায় বারইয়ারহাটস্থ প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি তার এই ১৩ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন।

ইশতেহার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং তারেক রহমানের ঘোষিত ‘রাষ্ট্র কাঠামোর ৩১ দফা’-র আলোকে মিরসরাইয়ের জন্য এই বিশেষ রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।


নুরুল আমিন চেয়ারম্যান তার ইশতেহারে মিরসরাইয়ের আমূল পরিবর্তনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পয়েন্টগুলো হলো:

  1. সন্ত্রাস ও দুর্নীতি দমনে জিরো টলারেন্স: নির্বাচিত হলে মিরসরাইয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
  2. বেকারত্ব নিরসন ও কর্মসংস্থান: তরুণদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।
  3. স্বাস্থ্যসেবা আধুনিকায়ন: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন করা।
  4. মহাসড়কে নিরাপত্তা ও ট্রমা সেন্টার: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় দ্রুত চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষায়িত ট্রমা সেন্টার নির্মাণ।
  5. পর্যটনের উন্নয়ন: মহামায়া ও খৈয়াছড়াসহ মিরসরাইয়ের পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে নিরাপদ ও বিশ্বমানের পর্যটন স্পটে রূপান্তর করা।
  6. মাদকমুক্ত সমাজ ও ক্রীড়া উন্নয়ন: তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নির্মাণ এবং নিয়মিত ক্রীড়া টুর্নামেন্টের আয়োজন।
  7. শিক্ষার মানোন্নয়ন: প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইসিটি ল্যাব, আধুনিক লাইব্রেরি ও অবকাঠামো উন্নয়ন।
  8. কৃষক ও উদ্যোক্তা বান্ধব কর্মসূচি: কৃষি কার্ড প্রদান, খাল খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ক্ষুদ্র শিল্প ও পশুপালনে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি।
  9. নারী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন: পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান এবং সুবিধাবঞ্চিতদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা।
  10. নাগরিক মতামতকে প্রাধান্য: উন্নয়নমূলক যে কোনো পরিকল্পনায় সরাসরি জনগণের মতামত নিতে উন্মুক্ত মতবিনিময় সভা আয়োজন।

ইশতেহার ঘোষণা শেষে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “দীর্ঘ তিন যুগের বেশি সময় ধরে আমি মিরসরাইয়ের মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে পাশে ছিলাম। আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান আমার ওপর আস্থা রেখে ধানের শীষের দায়িত্ব দিয়েছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি মিরসরাইবাসী ব্যালটের মাধ্যমে সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটাবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সমর্থন ব্যক্ত করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী, সাবেক আহ্বায়ক শাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর, বিএনপি নেতা অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম লতিফি, ফখরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন রুবেলসহ শতশত নেতাকর্মী।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নুরুল আমিন চেয়ারম্যান মিরসরাইকে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে জয়যুক্ত করার উদাত্ত আহ্বান জানান। স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন, এই ইশতেহারে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে তা মিরসরাইয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যার প্রকৃত সমাধান হিসেবে কাজ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চলুন