দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তরের শস্যভান্ডার খ্যাত দিনাজপুরের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম। বিশেষ করে দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট) আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় এক ভিন্নধর্মী মাত্রা যোগ হয়েছে। ভোটের মাঠে প্রার্থীদের গতানুগতিক প্রতিশ্রুতি আর রাজনৈতিক কাদা-ছোড়াছুড়ির বাইরে গিয়ে মানবিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন এই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
জাতীয় নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে ভোটারদের নতুন সমীকরণ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে ঘিরে কৃষিভিত্তিক এই জনপদে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে সব আলোচনাকে ছাপিয়ে ডা. জাহিদের চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কৃষি বিষয়ক সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ভোটারদের মাঝে ‘ধানের শীষ’র পক্ষে এক শক্তিশালী জনমত তৈরি করেছে।
হাজার হাজার বর্গকিলোমিটারের বিস্তীর্ণ দিনাজপুর জেলা দেশের অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদনকারী এলাকা। এই জেলার, বিশেষ করে দিনাজপুর-৬ আসনের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষক, শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবন-জীবিকা ঘিরেই এখানে রাজনীতির হিসাব-নিকাশ নির্ধারিত হয়।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কৃষি খাত নিয়ে যে যুগান্তকারী পরিকল্পনা ও আশ্বাস দিয়েছেন, তা এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তারেক রহমানের বক্তব্যে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো, সারের সহজলভ্যতা, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই হবে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
একজন স্থানীয় কৃষক বলেন, “আমরা রাজনীতি বুঝি না, বুঝি পেটের ক্ষুধা আর ফসলের দাম। তারেক রহমান সাহেব যে কথাগুলো বলেছেন, তা যদি বাস্তবায়ন হয়, তবে আমাদের আর পথে বসতে হবে না। এই আশ্বাসই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে।”
দিনাজপুর-৬ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি দেশের একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক। সাধারণত নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা সভা-সমাবেশ আর মিছিলে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু ডা. জাহিদ হাঁটছেন ভিন্ন পথে।
নির্বাচনী প্রচারণার ফাঁকে ফাঁকে তিনি রোগী দেখছেন, বয়স্ক মানুষের পালস চেক করছেন এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। গ্রাম-বাংলার ধুলোমাখা পথে যখন তিনি গণসংযোগে বের হচ্ছেন, তখন তিনি কেবল ভোট চাইছেন না, বরং মানুষের শারীরিক খোঁজ-খবরও নিচ্ছেন। তার এই ‘ডাক্তার ও নেতা’ সত্তার সংমিশ্রণ স্থানীয়দের আবেগকে স্পর্শ করেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন নিয়ে চরম ব্যস্ততার মাঝেও ডা. জাহিদ হোসেনের এই চিকিৎসাসেবা প্রদান ভোটারদের আস্থাকে আরও জোরালো করেছে। হাকিমপুর উপজেলার এক বৃদ্ধা ভোটার বলেন, “ভোটের সময় সবাই আসে, হাত নাড়ায় আর চলে যায়। কিন্তু জাহিদ ডাক্তার আমার ছেলের মতো আমার প্রেসার মেপে ওষুধ লিখে দিলেন। এমন মানুষই তো আমাদের এমপি হওয়া উচিত।”
দিনাজপুর-৬ আসনটি ঐতিহাসিকভাবেই ডানপন্থী রাজনীতির উর্বর ক্ষেত্র। তবে এবারের নির্বাচনে এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের বদলে দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। স্থানীয় ভোটারদের মতে, মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। জামায়াতের শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি থাকলেও ডা. জাহিদের ব্যক্তিগত ইমেজ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কৃষি পরিকল্পনা ধানের শীষকে কিছুটা এগিয়ে রাখছে বলে মনে করছেন অনেকে।
ভোটারদের একটি বড় অংশ জানাচ্ছে, তারা এবার শুধু রাজনৈতিক দলের ব্যানার দেখছেন না, বরং প্রার্থীর যোগ্যতা, কর্ম ও আচরণকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। জামায়াত তাদের নিজস্ব ভোটব্যাংক ধরে রাখার চেষ্টা করলেও সাধারণ ও দোদুল্যমান ভোটাররা ডা. জাহিদের মানবিক আবেদনের দিকে ঝুঁকছেন।
প্রতিশ্রুতি আর বক্তব্যে সরগরম হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ফসলের মাঠ—সবখানেই চলছে ভোটের আলোচনা। তবে ভোটারদের মানসিকতায় এবার বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা এমন একজন প্রতিনিধি চান, যিনি সুখে-দুখে তাদের পাশে থাকবেন।
ঘোড়াঘাট উপজেলার এক তরুণ ভোটার বলেন, “শুধু ভোট দিলেই উন্নয়ন হয় না, এটা আমরা অতীতে দেখেছি। যিনি মানুষের পাশে থাকেন, দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ান, আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ তার হাতেই তুলে দিতে চাই। ডা. জাহিদ সেই আস্থাটা অর্জন করতে পেরেছেন।”
আরেক ভোটার বলেন, “আমাদের প্রধান জীবিকা কৃষি, আর প্রধান সমস্যা চিকিৎসা। কৃষি উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের চিকিৎসা ও মানবিকতা—এই বিষয়গুলো যিনি বোঝেন, তিনিই প্রকৃত প্রতিনিধি। যিনি আগে থেকে মানুষের পাশে আছেন, এমপি হলে তিনি আরও বেশি সেবা করতে পারবেন।”
সব মিলিয়ে দিনাজপুরের নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে ভোটাররা এবার ফাঁকা বুলির চেয়ে মানবিক নেতৃত্বকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ডা. জাহিদ হোসেনের চিকিৎসাসেবা এবং বিএনপির কৃষি বিপ্লবের ডাক দিনাজপুর-৬ আসনে ধানের শীষের পালে জোর হাওয়া লাগিয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট পেপারেই নির্ধারিত হবে এই অঞ্চলের ভাগ্য। তবে ডা. জাহিদ যেভাবে রাজনীতিকে সেবার সঙ্গে মিলিয়েছেন, তা এই জনপদের মানুষের মনে দীর্ঘদিনের জন্য গেঁথে থাকবে—এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এখন দেখার বিষয়, এই মানবিক আবেদন ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।
