শিক্ষিকার দুই ঠোঁট কেটে বিচ্ছিন্ন করে দিল ছাত্র

ভারতের উত্তর প্রদেশের মইনপুরীতে ঘটে গেছে এক অভাবনীয় ও লোমহর্ষক অপরাধ। এক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রের হাতে নির্মমভাবে আক্রান্ত হয়েছেন তার প্রাক্তন এক শিক্ষিকা। রাস্তা আটকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে ওই শিক্ষিকার উভয় ঠোঁট কেটে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে অভিযুক্ত ছাত্র। গত ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটলেও, সম্প্রতি স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করার পর তা জনসমক্ষে আসে।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকা মইনপুরীর আগ্রা রোডের একটি বেসরকারি স্কুলে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত ছাত্রটি দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষিকাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত ও হয়রানি করে আসছিল। শিক্ষিকার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রটির এই কুরুচিপূর্ণ আচরণ সম্পর্কে তার পরিবারকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল।

শিক্ষিকার ভাই জানান, একটি অভিভাবক-শিক্ষক (PTA) সভায় বিষয়টি ওই ছাত্রের মাকে বিস্তারিত জানানো হয়। তখন ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে এই ধরণের হয়রানি বন্ধের কঠোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই আশ্বাস কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল; বাস্তবে ছাত্রটি তার মানসিক বিকৃতি ও হয়রানির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।

ছাত্রটির অনবরত মানসিক ও শারীরিক হয়রানিত অতিষ্ঠ হয়ে এক পর্যায়ে ওই শিক্ষিকা তার পুরনো কর্মস্থল ছেড়ে দেন। তিনি ভেবেছিলেন, অন্য একটি স্কুলে যোগ দিলে হয়তো এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলবে। কিন্তু অভিযুক্ত ছাত্রটি তার পিছু ছাড়েনি। সে নতুন কর্মস্থলেও শিক্ষিকাকে অনুসরণ করতে শুরু করে এবং প্রতিদিন তার গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাতে থাকে।

গত ২৬ জানুয়ারি, যখন গোটা ভারত প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনে ব্যস্ত, ঠিক সেই সকালে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন ওই শিক্ষিকা। পথিমধ্যে ওত পেতে থাকা অভিযুক্ত ছাত্রটি অতর্কিতে তার পথ আটকায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে একটি ধারালো অস্ত্র বের করে শিক্ষিকার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় পৈশাচিক আক্রোশে সে শিক্ষিকার দুটি ঠোঁট কেটে ফেলে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এই বর্বরোচিত ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। মইনপুরীর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) ফতেহ বাহাদুর সিং গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “ভুক্তভোগী শিক্ষিকার ভাইয়ের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি।”

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ছাত্রটি পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। আসামিকে হেফাজতে নেওয়ার পর তাকে কিশোর সংশোধন কেন্দ্র বা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় সোপর্দ করা হবে। গুরুতর আহত ওই শিক্ষিকা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তবে এই ট্রমা কাটিয়ে ওঠা তার জন্য দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

একজন শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষিকার এমন লাঞ্ছনা ও শারীরিক অঙ্গহানির ঘটনা ভারতের সুধী সমাজে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেন একজন কিশোরের মধ্যে এমন ভয়াবহ অপরাধপ্রবণতা তৈরি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন মনোবিজ্ঞানীরা। কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা এবং বখাটেদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চলুন