২০৩০ সালে চীনের চন্দ্রাভিযানের আগেই চাঁদে আধিপত্য বিস্তার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মার্কিন দুই বেসরকারি সংস্থা— স্পেসএক্স এবং ব্লু অরিজিন। গত কয়েক সপ্তাহে দুই সংস্থার প্রধানদের ঘোষণা ও তৎপরতা মহাকাশ গবেষণার সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে।
ইলন মাস্ক তাঁর দীর্ঘদিনের ‘মঙ্গল গ্রহ’ পরিকল্পনা থেকে কিছুটা সরে এসে এখন চাঁদের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছেন। সম্প্রতি এক পডকাস্ট এবং তাঁর এআই সংস্থা xAI-এর মিটিংয়ে তিনি অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী কিছু পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন:
- মুনবেজ আলফা: আগামী ১০ বছরের মধ্যে চাঁদের বুকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শহর বা ঘাঁটি গড়ার লক্ষ্য নিয়েছেন মাস্ক।
- এআই স্যাটেলাইট ফ্যাক্টরি: চাঁদে বসানো হবে একটি বিশালাকার ‘ক্যাটাপাল্ট’ বা মাস ড্রাইভার যা দিয়ে চাঁদের মাটি থেকেই এআই-চালিত স্যাটেলাইটগুলো মহাকাশে ছুড়ে দেওয়া হবে।
- ১০ লাখ স্যাটেলাইট: তাঁর লক্ষ্য ১০ লাখ স্যাটেলাইটের একটি এআই কম্পিউটিং নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যা পৃথিবীকে ছাড়িয়ে মহাকাশেও ইন্টারনেটের আধিপত্য বিস্তার করবে।
বসে নেই জেফ বেজোসও। তাঁর সংস্থা ব্লু অরিজিন সম্প্রতি তাদের সাব-অরবিটাল ট্যুরিজম (New Shepard) ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধ করে সব জনবল ও অর্থ চন্দ্রাভিযানে নিয়োজিত করেছে:
- ব্লু মুন ল্যান্ডার: ২০২৬ সালের মধ্যেই তারা চাঁদে একটি মনুষ্যবিহীন ‘পাথফাইন্ডার’ ল্যান্ডার পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি হবে নাসার আর্টেমিস প্রকল্পের একটি বড় অংশ।
- টেস্টিং পর্যায়: তাদের চন্দ্রযানটি বর্তমানে নাসার জনসন মহাকাশ কেন্দ্রে তাপ ও চাপ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
এই ব্যক্তিগত লড়াইয়ের পেছনে রয়েছে বড় রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণ:
- চীনের ভয়: চীন ঘোষণা করেছে ২০৩০ সালের মধ্যে তারা চাঁদে মানুষ পাঠাবে। এর আগেই যুক্তরাষ্ট্র চায় তাদের বেসরকারি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে চাঁদে শক্ত অবস্থান গড়তে।
- নাসার অর্থায়ন: নাসা আর্টেমিস মিশনের জন্য স্পেসএক্স এবং ব্লু অরিজিন—উভয়কেই কোটি কোটি ডলার দিচ্ছে। স্পেসএক্সের স্টারশিপ রকেটটি ২০২৮ সালের মধ্যে মানুষ নিয়ে চাঁদে নামার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, যদিও কারিগরি চ্যালেঞ্জ এখনো বিশাল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদ যদি ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার পথে একটি ‘ট্রানজিট স্টেশন’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে স্পেসএক্স আগেভাগে সেখানে অবকাঠামো গড়ে তুলে পুরো মহাকাশ অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
