সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-র নেতৃত্বাধীন জোটের ভূমিধস জয় এখন বৈশ্বিক সংবাদের শিরোনাম। নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (X) বাংলায় পোস্ট দিয়ে এবং সরাসরি টেলিফোন করে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভারতের এই ‘এক ধাপ এগিয়ে’ শুভেচ্ছা জানানোকে কূটনীতিকরা দিল্লির নীতিগত পরিবর্তনের এক বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের এই পরিবর্তনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করছে:
- আনন্দবাজার পত্রিকা: তাদের প্রধান প্রতিবেদনে লিখেছে— ‘নৌকাবিহীন ভোটে বাংলাদেশের আস্থা চেনা ধানের শিষের উপর, ক্রমশ পিছোতে পিছোতে কুড়ি বছর পর “সবার আগে” বিএনপি।’ তারা বিশ্লেষণ করেছে যে, বাংলাদেশের মানুষ এখনো পরিচিত নেতৃত্বের হাতেই শাসনভার দিতে বেশি স্বচ্ছন্দ।
- সংবাদ প্রতিদিন: বিশাল ব্যানার শিরোনাম করেছে— ‘প্রত্যাবর্তনেই পরিবর্তন’।
- আজকাল: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুভেচ্ছা বার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে লিখেছে— ‘এপার-ওপার সুসম্পর্কের বার্তা, “তারেকভাইকে” শুভেচ্ছা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতার’। মমতা তার বার্তায় তারেক রহমানকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তারেক রহমানের জয় নিশ্চিত হতেই শুভেচ্ছা জানিয়েছে পাকিস্তান ও চীনও:
- পাকিস্তান: প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার বার্তা দিয়েছেন।
- চীন: বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে ‘একসঙ্গে কাজ করতে’ আগ্রহী।
এদিকে, ভারতের দিল্লিতে আশ্রিত আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নির্বাচনকে ‘প্রহসনের ভোট’ বলে দাবি করেছেন। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তার এই দাবি প্রচার করলেও একইসঙ্গে মোদি সরকারের তারেক রহমানের প্রতি সমর্থনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে। হিন্দুস্তান টাইমস একে ‘দিল্লিতে বসে ভোট প্রত্যাখ্যান হাসিনার, তারেককে মোদির অভিনন্দন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর উত্থান (৬৮ আসন) এবং বিএনপি-র নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভারতকে নতুন করে সমীকরণ মেলাতে বাধ্য করছে। ড. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জামায়াতের এই উত্থান ভারতের জন্য উদ্বেগের কি না, তা নিয়ে ‘আনন্দবাজার’ ও ‘দ্য হিন্দু’ বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। তবে মোদি-তারেকের ফোনালাপ সেই উদ্বেগ কমিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নতুন দুয়ার খোলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
