ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর ঢাকা-১১ আসনে শুরু হয়েছে শ্বাসরুদ্ধকর ভোট গণনা। প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা বনাম ছাত্র আন্দোলনের অগ্রপথিক—অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের এই লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে এক অভাবনীয় দৃশ্য। রামপুরার একরামুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি কেন্দ্রে ধানের শীষের এম এ কাইয়ুম এবং শাপলা কলি প্রতীকের নাহিদ ইসলামের মধ্যে সমানে সমান লড়াই চলছে।
এখন পর্যন্ত পাওয়া দুটি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী:
- ৫৩ নং কেন্দ্র: এই কেন্দ্রে এগিয়ে আছেন বিএনপির এম এ কাইয়ুম। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৪৬৬ ভোট। অন্যদিকে নাহিদ ইসলাম শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩৮ ভোট।
- ৫৫ নং কেন্দ্র: ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে এই কেন্দ্রে। এখানে নাহিদ ইসলাম ধানের শীষকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে পেয়েছেন ৭১৩ ভোট। বিপরীতে এম এ কাইয়ুম পেয়েছেন ৪৩০ ভোট।
দুই কেন্দ্রের মোট ভোট যোগ করলে দেখা যায়, নাহিদ ইসলাম ১,০৫১ ভোট পেয়ে এম এ কাইয়ুমের (৮৯৬ ভোট) চেয়ে ১৫৫ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। রামপুরার মতো এলাকায় নাহিদ ইসলামের এই লিড পুরো ঢাকা-১১ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির এম এ কাইয়ুম দলটির তৃণমূলের দীর্ঘদিনের নেতা এবং সাবেক কমিশনার হিসেবে এলাকায় শক্তিশালী ভিত্তি রাখেন। অন্যদিকে, জুলাই বিপ্লবের অন্যতম প্রধান সংগঠক নাহিদ ইসলাম তারুণ্যের প্রতীক হিসেবে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের হয়ে নির্বাচনি ময়দানে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের রেশ এবং স্থানীয় ‘ভূমিদস্যুতা’ নির্মূলের অঙ্গীকার তরুণ ভোটারদের নাহিদ ইসলামের দিকে টেনেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, আজ ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ২৯৯টি আসনে বিপুল উৎসাহে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি হলেও সকলের নজর এখন শুক্রবার সকালের দিকে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, রাতভর সব তথ্য সংগ্রহ করে শুক্রবার সকালে চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
