আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে রাজশাহী বিভাগে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা ঘটলে মাত্র ৫ থেকে ৭ মিনিটের মধ্যে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পৌঁছে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ।
সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার জানান, রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার ৩৯টি সংসদীয় আসনে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনি ময়দানে এবার মোতায়েন করা হচ্ছে বিশাল এক নিরাপত্তা বাহিনী।
- মোট সদস্য: ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
- বাহিনীভিত্তিক বিভাজন: সেনাবাহিনী ১০,০০০ জন, বিজিবি ৪,১২৩ জন, রেঞ্জ পুলিশ ১৩,৭৯৬ জন, আরএমপি ২,৪০৫ জন, র্যাব ১০০৬ জন এবং আনসার বাহিনীর ৭২,৭৩৬ জন সদস্য মাঠে থাকবেন।
- ম্যাজিস্ট্রেট: নির্বাচনের দিন ২১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৩৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
ড. বজলুর রশীদ বলেন, “আমরা এমনভাবে নিরাপত্তা বিন্যাস করেছি যে, কোনো কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটামাত্রই আমাদের ‘প্যাট্রোলিং ফোর্স’ ৫ থেকে ৭ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা প্রতিটি কেন্দ্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, তাই বড় কোনো অঘটনের আশঙ্কা খুবই কম।”
ভোটগ্রহণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং জালিয়াতি রোধে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।
- সিসিটিভি ক্যামেরা: বিভাগের ৫,৫০৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫,২৬৬টিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
- বডি ওর্ন ক্যামেরা: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পোশাকে থাকবে ২,৩১৮টি বডি ওর্ন ক্যামেরা, যা সরাসরি মনিটরিং করা হবে।
এক নজরে রাজশাহীর নির্বাচনি পরিসংখ্যান
- মোট ভোটার: ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬ জন।
- গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র: ১,৭৬৭টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।
- অস্ত্র উদ্ধার: ১ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যৌথ অভিযানে ১৩০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৪৩৩টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ৪,৫৯৪টি বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়া হয়েছে।
সবশেষে বিভাগীয় কমিশনার ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিচ্ছি আমরা।”
