যশোরের অভয়নগরে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, পেট্রোল বোমা এবং গোলাবারুদ (অ্যামোনেশন) উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের চলিশিয়া গ্রামে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত সরঞ্জামগুলো স্থানীয় থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান আজ দুপুরে গণমাধ্যমকে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যৌথবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভয়নগর আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর মাহফুজের নেতৃত্বে সোমবার ভোররাতে চলিশিয়া গ্রামে একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের লক্ষ্য ছিল ওই গ্রামের মৃত আ. করিম মোল্যার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মারুফের (২৮) বাড়ি।
যৌথবাহিনীর সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে ফেললে উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় অভিযুক্ত মারুফ। তবে তার বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরকের এক বিশাল ভাণ্ডার খুঁজে পায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী।
অভিযান শেষে মারুফের ঘর থেকে নিচের সরঞ্জামগুলো জব্দ করা হয়:
- ৪টি তাজা পেট্রোল বোমা
- ২ পিস অ্যামোনেশন (গোলাবারুদ)
- ১টি ধারালো চাইনিজ কুড়াল
- ৫টি বিশেষ ধরনের চাপট
- ৩টি রামদা
- ৩টি বড় ছুরি
- ১টি হকস্টিক
সোমবার সকালে উদ্ধারকৃত এই সকল দেশীয় অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য অভয়নগর থানায় জমা দেওয়া হয়। অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান বলেন, “যৌথবাহিনীর অভিযানে উদ্ধারকৃত দেশীয় অস্ত্র, অ্যামোনেশন ও পেট্রোল বোমা আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযানের সময় কোনো আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযুক্ত পলাতক মারুফের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের ধরতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলেও যৌথবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভোররাতের এই আকস্মিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চলিশিয়া গ্রামসহ পুরো উপজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, নাশকতামূলক কোনো বড় ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যেই এই অস্ত্র ও পেট্রোল বোমাগুলো মজুদ করা হয়েছিল। যৌথবাহিনীর এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। পুলিশ জানিয়েছে, পালিয়ে যাওয়া মারুফকে গ্রেফতার করতে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
